পত্র লেখা
সম্পাদক : সন্দীপ দাস
সম্পাদকের কলমে :
প্রথমেই সকল লেখক ও লেখকদের ধন্যবাদ জানাই ।। আপনাদের সাহায্য ছাড়া এই প্রকাশ করা অসম্ভব ছিল ।।
পত্র যা শুধু একটি ভাব আদান প্রদানের মাধ্যম ছিল তা নয় , এটি সাহিত্যের দুনিয়ায় চিঠির ভূমিকা ছিল বিশাল ।।
'পত্রলেখা' লেখক সূচি :
ক. গেস্ট লেখক :
১. বাপ্পাদিত্য পান্ডে
২. সচিন্দ্রনাথ রানা
খ. বাকি লেখকগণ :
৩. নাজিমা পারভীন
৪. দোলা ঘোষাল
৫. প্রবীর চক্রবর্তী
৬. পৃথা ব্যানার্জি
৭. মৌসুমী ভৌমিক
৮. নারায়ণী দত্ত
৯. শ্যামাপদ মালাকার
১০ . কৃষ্ণেন্দু দাসঠাকুর
১১. অনিতা ঘোষ
১২. পায়েল খাড়া
১৩. জয়দীপ রায়
১৪. নিজামুদ্দিন মোল্লা
১৫. ফিরোজ আখতার
১৬ . অর্জুন
১৭. চন্দ্রাবলি ব্যানার্জি
১৮. শুভম গাঙ্গুলী
১. হৃদয়ের অনন্যা
হেমন্তের সোনালি দুপুর এলেই জানলায় চোখ রেখে আজও চেয়ে থাকি ঝরা পাতার মোরাম বিছানো ঐ ফাঁকা রাস্তায় তুমি আসবে বলে।কথা ছিল অচিরেই একদিন প্রাক শীতের ওড়না উড়িয়ে এসে ভরিয়ে দেবে আমার হৃদয়।
তারপর......অনেক হৈমন্তিক রোদের ঝাপটা বয়ে গেছে আমার শরীরে।শুনেছি তুমি খুব সুখে সংসার করছ।এটাই তো আমি চেয়েছিলাম আমি।তবু আজও আশায় থাকি তুমি একবার এসে হাতে হাত রাখবে।
বয়সের ভারে কমে আসছে চোখের দৃষ্টি-শরীরের ক্ষমতা।এসব চিঠি এখন হৃদয়ে জমিয়ে রাখি।জানি না আগামী বসন্তে দেখা হবে কিনা।না হোক্ তুমি ভাল থেকো শ্রাবণ ধারার মতোই।
..........তোমার অরণ্য
২.
ঃহৃদয়েশ্বরী তোমাকেঃ
শচীন রানা।
তোমাকে বহুদিন বাদে হঠাৎ পেয়ে গেলাম।বাল্যখিল্য বুক ফোলানো মানুষটি র উক্তি যাকে গ্ৰাহ্য করিনি তার ভাষন শুনে রিতিমত চমকিত নিশ্চয় যে হলাম তা না বলা থাকবে কেন,
সেটাই মাত্র জানিয়ে অধ্যায়টা আর টানলাম না।
আমি জানি তুমি মুখ ঘুরিয়ে নাও নি
বাধ্যতায় সব একদিনে মুছে দিতে হয়েছিল।
তাই রাগ নয় কিছু অভিমান কাজ করেছিল।
কিন্তু আমি তো পিছিয়ে যায়নি কোনদিন ও
হৃদয়েশ্বরী তোমার কাছ থেকে।
আমি ঋনী তুমি ন ও আমার কাছে।
তবু সেটা তোমায় বলা তুমি বলতে পারো
আমি ন ই।শুধু আমি জানি যাইহোক না কেন
ভালবাসা যদি হয়ে থাকে সেটা রয়ে যাবে
মুছবে না কখন ও।কেউ মুছতে পারে না প্রকাশ্যে
মুর্খলোকের কাছে সেটা বিস্ময় হয়ে থেকে যাবে।
আমি গিয়েছি তোমার টানে,তখনো দেখিনি সামনে
অথবা ছবিতে বা চোখের মায়ায় তখন ও পড়িনি ধরা, কি এক মায়াবি রাতে তোমার একটি কবিতা যেটা পড়েছিলাম আজ আর সেটা কখনো দেখি না
তাই কোন মন্তব্যের ঘরে আমি যেটা ছুঁয়ে তোমাকে
পেয়েছি,সেটা আর কখনো দেখতে হয় না।
তুমি এলে,সেটা হয়ত বিস্মৃতির অতল তলে ভেবেছিলাম তলিয়ে গিয়েছে তার রূপ রস গন্ধ নিয়ে, শুধু পড়ে আছে সুহাসিনী সারাদিন তোমার মায়ায়।জানি আছি তবে কেন আমার ছবির হয়তো প্রয়োজনে তুমি পাঠালে সুন্দরী তোমার মনের রঙে
রাঙিয়ে একটি নয়,দুটি নয় বেশ কয়েকটা।
সিনেমার পর্দা হলে বলা যেত নায়িকার ছবি।
তুমি সত্যি নায়িকা,নায়িকার মতন নয় রূপে গুনে আভিজ্যাত্যে কবিতার আঁখিলাস্যে সবার নায়িকা।
তোমাকে বিরাট চিত্রকর দিয়েছে অরূপ সে বানী
শুনেছে যখন অগনিত জনগন তোমার কবিতা আর দেখেছি তোমার হাস্যময় রূপ করেছ হৃদয় জয় তুমি জয়ী তুমি নারী তুমি মোর শুধু নয়
এই বিচত্র নগরী কবিতার সে তোমার।
আজ নিরালা জানালার ধারে হিমেল বাতাসে যখন
মনে হলো কেউ,বুঝি পাঠালে তার আওহ্বান
কোন সুদূর থেকে বহুদূরে আমি ইথারের গভীরতায় মুগ্ধ সে,তার হাসি চোখের কোনায়।
সে এক ভালবাসা সব এক ভাবনার মত সবাই ভাবে এক, তবু মিলে না কখন ও।যতজন ততগুলি
ভাবনার চিহ্ন আঁকা মুখ এক এক রূপান্তর তবে নিরন্তর চলে।দহন দাহনে প্রানঘাতি মর্মরিত ওদের কাহিনি লায়লা মজনূর উপাখ্যান আজো চোখে
জল আসে।তোমাকেও দেখে আমি ভাবি ভালবাসা
আর ভালবাসা র নিরব কান্নায়। পাওয়া না পাওয়ার
কথা নয়, নিরুত্তর স্বপ্ন নীল মায়াময় ছবি তোমার
ছন্দে ওঠে বিগলিত বিমথিত রূপের সন্ধানে হয়েছে
নিজেই সুন্দর কবির কবিতায়।
শচীন রানা।।
প্রিয় দূরদেশী বন্ধু,
কেমন আছ তুমি অগোচরে ,
একটি বারের জন্যও কি মনে পরি না আমি?
বন্ধু বলে ডেকেছিলে,
বলেছিলে ভালোবাসি।
আর আজ কিভাবে দূরে চলে গেলে গো?
আজ তুমি নেই পাশে,
চলে গেছ বহু দূরে।
সুখে আছ তুমি সেথা তোমার প্রিয়দের ভিড়ে।
আমিও চেষ্টা করছি সুখে থাকার,
ভাল থাকার।
তোমাকে ছাড়ায় আমি সুখ খুঁজছি,
সেই তুমি !
যে তুমিকে ছাড়া একটা দিন তো দূরের কথা,
একটা সেকেন্ডও হাঁসতে পারতাম না,
আজ আমি অনেক বদলে গেছি,
জানো আমি আর তোমাকে আগের মতো miss করি না,
হয়ত ভালো ও বাসি না।
তোমার প্রতি এখন যা আছে হয়ত তা আবেগ ! আর এই আবেগ কত দিনের ,
মরার আগেই নিশ্চয় সব শেষ হয়ে যাবে।
তোমার জন্য অনেক চোখ ফুলিয়েছি,
আমি আজ অবধি যতটা কষ্ট পেয়েছি তোমার জন্য,
তুমি যদি তার সিকিভাগও কষ্ট পাও,
আর সে কষ্ট যদি নিখাদ হয় তাহলেই আমার প্রেম স্বার্থক হবে।
আগে তোমার একটা ফোনের আসায় অনেক রাত অবধি জেগে থাকতাম,
জানো রাতে ঘুম আসত না বলে সবার ঘুমানোর আগেই বিছানায় শুয়ে পরতাম,
যাতে তাড়াতাড়ি চোখে ঘুম নেমে আসে !
আর আজ দিন বদলে গেছে,
অভ্যাসও বদলে গেছে,
হয়ত বা সবই এক আছে আমি মেয়েটা বদলে গেছি!
তোমার ফোন না আসলে আর কষ্ট হয় না,
বরং তোমার ফোন না করাটা আমাকে তোমাকে ছাড়া আরও একটা সেকেন্ড থাকতে থুরি বাঁচতে শিখিয়ে দিয়েছে।
আজ আমিও স্বার্থপর হয়ে গেছি - ঠিক তোমার মতোই।
জানো তোমার জন্য একটা সুখবর আছে - আমি প্রস্তুতি নিচ্ছি গো অন্য কারো জন্য,
অন্য কারো ভালোবাসা পাওয়ার তাগিদে।।
ইতি,
তোমার হেলায় হারানো প্রিয়ে।
চিঠি শুরুর আগে বলে রাখি যাঁকে চিঠি লিখছি তাঁর নাম মিতেন্দ্রলাল গাঙ্গুলী।এনার পরিচয় ইনি শিল্পী অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাতি ও 'দক্ষিণের বারান্দার'লেখক মোহনলাল গাঙ্গুলীর ছেলে।ইনি একসময় আমার পত্রবন্ধু ছিলেন।এখন আমাদের পারিবারিক বন্ধু বলা যেতে পারে।যদিও আমি ওনার থেকে অনেকটাই বড়।প্রায় আমার মা'র বয়সী।কিন্তু ওনার মতন বন্ধু কম পাওয়া যায়।আমাদের এই অসম বয়সী মিতালী দীর্ঘ প্রায় ২১ বছরের।এই মানুষটি আমার ও আমার পরিবারের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িয়ে গেছেন। যদিও মাঝে দু-একবার মনোমলিন্য হয়েছিলো তবু সে মনোমালিন্য দূরে সরিয়ে রেখে এই মিতালী দীর্ঘায়িত হয়েছে।আশা রাখি আমাদের এই মিতালী আজীবন অটুট থাকবে। 20.10.20017
______________
বৃহস্পতিবার/Thursday
গড়িয়া
প্রিয়
মিতেনদা
বহুদিন বাদে তোমায় চিঠি লিখছি।তুমি বেশ কিছুদিন ধরেই চিঠি দেওয়ার কথা বলছো।কিন্তু আমারই সময় হচ্ছে না।আসলে তোমার এই ছোট্ট বান্ধবীটি ইদানীং সামান্য সাহিত্য জগতে একটু পরিচিত হয়েছে।তাই লেখা নিয়ে একটু ব্যস্ত থাকি।আর তাছাড়া এই মুহূর্তে আমার জীবনে বেঁচে থাকার অবলম্বন আর কি আছে বলো।আর তারওপর এখন যে আর্থিক সঙ্কটে পরেছি সে তো তুমি জানোই। এমন অবস্থায় পরেছি যে মাঝে-মাঝে মনে হচ্ছে যে আমার আত্মহত্যা করা ছাড়া আর কোনও উপায় নেই।কিন্তু আবার মনকে শক্ত করছি।বন্ধু-বান্ধরাও সাহায্য করছে অল্প-স্বল্প সাহায্য করছে।কিন্তু তাতে এই আর্থিক সঙ্কট কাটার নয় এক সঙ্গে বেশ কিছু টাকার দরকার এই মুহূর্তে সে তো তুমি জানোই।
এখন ভাবতে খুব ভাল লাগে জানো সেই পুরনো দিনগুলোর কথা।কত সুন্দর ছিলো দিনগুলো।তোমার সঙ্গে সেই প্রথম আলাপের দিনগুলো মনে পরে তোমার।তারপরে তুমি-আমি-হাসি-অরূপ সবাই মিলে আড্ডা মারা গান শোনা।কি সুন্দর ছিলো বলো তো দিনগুলো।তোমার মনে আছে তোমার সেই বন্ধু অশোকদার মোড়া ভেঙ্গে পরে যাওয়া।বেতের মোড়াতে বসে এমন কায়দাবাজি দেখাতে গেলো যে মোড়া ভেঙ্গে পরে গেলো।তারপরে আমাদের সেই গড়বেতা বেড়াতে যাওয়া।মানুষ কত পাল্টে যায় তাই না।জানো তো আজকাল হাসিকে ফোন করলে হাসি আর ফোন ধরে না।অথচ ঐ হাসি আগে আমার সঙ্গে ওর সব সমস্যা শেয়ার করতো।রণবীরের সঙ্গে যখন Problem চলছিলো তখন সেই ptoblem তো আমিই solv করলাম। সেই হাসি আজ আমায় ভুলে গেছে।আমার সঙ্গেই বারবার কেন এমন হয় বলতে পারো।যার জন্যে যত বেশী করি সে আমায় তত তাড়াতাড়ি ভুলে যায়।কে জানে আমারই হয়তো কোথাও ভুল বা দোষ আছে।
আমার জীবনটা একবার ভেবে দেখো তো কি অদ্ভূত।মাত্র উনিশ বছর বয়সে অসুস্থ হলাম।বাবা চলে গেলো।তারপরেও অনেক সমস্যার মধ্যেও ভাল ছিলাম।জীবনে প্রেমও এসেছিলো।সে প্রেমও ব্যার্থ হয়ে গেলো।তারপরে সম্পূর্ন একা হয়ে গেলাম। তারপরে মা অসুস্থ হলো।ঝড় উঠলো আমার জীবনে।এখন আমি সম্পূর্নভাবে সব দিক থেকে একা-নিঃস্ব-রিক্ত।এক এক সময় মনে হয় কেন বেঁচে আছি কিসের জন্যে বেঁচে আছি কার জন্যে বেঁচে আছি।কার জন্যে বেঁচে আছি তার অবশ্য একটা উত্তর পাওয়া যায়।আমার এই বুড়ি মা'টার জন্যেই বেঁচে আছি।আমি চলে গেলে এই মানুষটা পাগল হয়ে যাবে শুধু এই জন্যেই আত্মহত্যা করতে পারি নি আজ পর্যন্ত।
আসলে কি জানো আমার বাবা-মা'র পুরো জীবনটাই ছিলো unplaned যাকে বলে।বাড়িটা বাবা করলো অথচ একতলাটা ঠিক করে করলো না।কোনও মেডিক্লেম নেই কারুর নামে।কোনও LIC কোনও ইনসিওরেন্স নেই।কোথায় কি টাকা পয়সা রেখে গেছে জানতে পারলাম না।আমি আর মা বাইরের জগত সম্বন্ধে সম্পূর্ন অজ্ঞ ছিলাম।এমন কি মা ব্যঙ্কে টাকা জমা দিতে বা তুলতে পর্যন্ত জানত না।মা'ও আমাকে বাইরের জগত সম্পর্কে সম্পূর্ন অজ্ঞ করে রেখেছিলো।কতদিন মা'র সঙ্গে এই নিয়ে ঝগড়া হয়েছে।কতদিন বলেছি তোমার বয়স হচ্ছে সংসার আমায় বুঝে নিতে দাও।শোনে নি।শেষ পর্যন্ত সেই তো সব আমার ঘাড়েই এসে পরলো।আমায় যে টাকার জন্যে এখন কি কি করার কথা ভাবতে হচ্ছে সে তুমি কল্পনাও করতে পারবে না।মা তো এতো বুদ্ধিমান মা যে কেন আগে কোনও ইনকামের কথা ভাবে নি কে জানে।শুধু টাকা আঁকড়ে বসে থাকলেই কি টাকা থাকে।এটা কেন মা বোঝে না কুবেরের ধনও বসে খেলে শেষ হয়ে যায়।
জানো তো কত ছেলে এখনও আমায় প্রোপোজ করে।কিন্তু সবার একটাই লক্ষ্য সেটা হলো আমার শরীর।খুব কষ্ট হয় জানো তো খুব কষ্ট হয় আমার মনটা আজ পর্যন্ত কেউ বুঝলো না।আমার পুরো জীবনটাই কিরকম শূন্য হয়ে গেলো।
এখন শুধু লক্ষ্য আর্থিক জায়গাটা ঠিক করা।ব্যাস তাহলে বাকি জীবনটা লেখা নিয়েই কাটিয়ে দেবো।
আমি ভাল নেই মিতেনদা ভাল নেই।আমার এই শূন্য জীবনটা আজকাল খুব ভারী লাগে।নিজের শরীরটাকেও নিজের কাছে আজকাল বোঝা মনে হয় মাঝে মাঝে খুব কান্না পায় জানো।মানুষের জীবনে না পাওয়া থাকে।কিন্তু আমার জীবনে পুরোটাই না পাওয়া।পুরোটাই তো শূন্যের ঘরে। জানি না শেষের সেদিনে কি আছে।ভয়ঙ্কর কিছু ঘটবে না ভাল কিছু ঘটবে।তবু এটা মানতেই চেষ্টা করি
'ভাল মন্দ যাহাই আসুক সত্যেরে লও সহজে'।
আমার জীবনটা কি হতে পারত আর কি হয়ে গেলো।আমার কি না ছিলো বলো তো।সুন্দরী ছিলাম।♣ শুধু আমার বাবার একটা ভুলে আজ আমার এই অবস্থা।বাবা যদি চিকিৎসাটা ঠিক মতন করাতো আজ কি আমার এই অবস্থা হতো বলো তো।কে জানে গত জন্মের কোনও পাপের ফলে হয়তো আজ আমার এই অবস্থা।তুমি তো আবার এসব মানো না।কিন্তু আমার এক বন্ধু যে নাকি আজ আর এই পৃথিবীতে নেই সে অনেক কিছু জানত।সে বলেছিলো একটা গল্প।
আমি নাকি গত জন্মে নর্তকী ছিলাম।আমি খুব ভাল নাচতে পারতাম। আর সেই জন্যে আমার খুব অহঙ্কার ছিলো।অনেক নর্তকীকে আমি নাকি উঠতে দিই নি।সেই পাপেই নাকি এই জন্মে আমার এই অবস্থা।
হবে হয়তো।কে বলতে পারে কার কিসের জন্যে কি হয়
দুটো ভাল খবর আছে এই মুহূর্তে।একটা কাব্য সংকলনে আমার কিছু কবিতা বেড়োচ্ছে।আর একটা গল্প সংকলনে একটা গল্প বেড়োচ্ছে।ব্যাস এছাড়া আমার জীবনে এই মুহূর্তে আর কোনও ভাল খবর নেই।
আর কি বলব।আচ্ছা বলতে ভুলে গিয়েছিলাম যে বইগুলো তোমায় দিয়ে কিনিয়েছিলাম সেইগুলো প্রায় সবই পড়া হয়ে গেছে।শুধু বঙ্কিমটা বাকি আছে।ভবিষত্যে যদি সব ঠিক হয়ে যায় তোমাকে আরও কিছু বই কিনতে দেবো।তবে একটাই অনুরোধ মা যেনো এই বই কেনার ব্যাপারটা কোনওমতেই না জানতে পারে।
আর কি বলব।আজ পর্যন্তই থাক্।ভাল থেকো।
তোমার
দোলা
প্রিয় সুবিদা,
তোমার জন্য খুব মন খারাপ করছে। কোথায় গেলে বলতো? সেই ১৯৪৫ সালের ১৮ই আগষ্ট থেকে তোমার কোন খবর নেই? কিছু বদমাশ লোক বলে তুমি নাকি প্লেন দুর্ঘটনায় মারা গেছো, যতসব বাজে কথা। যে দুর্ঘটনা ঘটেই নি, তাতে নাকি তুমি মারা গেছো, আর তোমার ঐ নাতি নাতবৌ গুলোও সেরকম, বদমাশ লোক গুলোর কাছে টাকা খেয়ে পারলি তোরা এসব রটাতে?
তোমাকে এরা সব মেরে ফেলতে চায় কেন বলতো? নাতি পুতিকে দিয়ে যখন হলো না তখন গিয়ে ধরলো এক সাংবাদিককে, সে আবার রটিয়ে দিলো ফৈজাবাদের রামভবনে গুমনামীবাবা নাম নিয়ে তুমি যে থাকতে সে ১৬ই সেপ্টেম্বর ১৯৮৫ মারা যায়, সে মারা যায় অর্থাৎ তুমিও মারা গেছো, হায়রে পোড়া কপাল, কি করে এদের বোঝাই বলতো যার দেহ দাহ করা হয়েছিল সেটা তোমার না। তুমি তো দশনামী সন্যাসী, দশনামী সন্যাসীর দেহ তো মাটী দেয়া হয়, পোড়ায় না, তাছাড়া শুনেছি ঐ দেহ নাকি এসিড ঢেলে বিকৃত করে কিছু বিক্রীত লোক। আরে বাবা যদি তারা জেনেই থাকে যে ওটা তুমিই তাহলে কি এসিড ঢেলে পোড়াতে যাবে বলো? তাই বুঝি না কেন তোমাকে মৃত প্রমান করার জন্য এত চেষ্টা?
তোমার নাকি বৌ মেয়ে আছে ? তোমার নাতি কি একটা চিঠি দেখিয়ে বলে সেটাতে তুমি জানিয়েছিলে বিয়ের কথা, আচ্ছা বলতো তুমি তো তোমার দাদাদের ইংরেজীতে চিঠি লিখতে, আর চিঠিতে সবসময় একটা মাঙ্গলিক চিন্হ থাকতো, চিঠিটা মাঙ্গলিক চিন্হ ছাড়া বাংলাতে লিখতে গেলে কেনো? আমি আর অনেকেই ওটা তোমার লেখা বলে মানি না। তাই তোমার বৌ মেয়ে কিছুই মানি না। শুধু তাই না, তোমার ঐ নকল বৌ মেয়েদের পিছনে বদমাশ লোকগুলো মাসোহারাও দিতো। অথচ তোমার সাথে যারা দেশের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করলো তাদের ভারতের সেনাবাহিনীতে নেয়াই হলো না। বোঝ তাহলে কি অবস্থা এই দেশের?
অনেক দিন তো হলো এবার দাদা ফিরে এসো। হ্যাঁ জানি ঐ একটা ওয়ার ক্রিমিনাল না কি একটা ট্যাগ তোমার গায়ে লাগিয়ে এরা দেশটাকে লুটছে। ওসব ট্যাগ ফ্যাগ আমরা মানি না, যেমন মানিনা ভারত মায়ের শাড়ীর আঁচলে কমনওয়েলথের তকমা, ঐ তকমা তোমাকে আমাদের কাছে বিদেশী বানিয়ে রেখেছে, তাই দাদা আমরা অনেকেই তোমাকে পাবার জন্য নিজেদের বৃটিশ তথা কমনওয়েলথের এলিয়েন ঘোষনা করেছি। তুমি দাদা ফিরে এসো, এ শুধু আমার কথা না, আমার মতো তোমার অসংখ্য ভাই এর কথা।
শেষে তোমার পাদপদ্মে জানাই শত সহস্র প্রণাম।
তোমার ফেরার আশায় রইলাম।
তোমার একান্ত অনুগত ভাই,
প্রবীর চক্রবর্তী।
সুপ্রিয়তম
জানি তুমি অনেক দুরে তবুও আজ আবার বসেছি তোমায় চিঠি লিখতে। তুমিতো আর চিঠিও লেখোনা কোনো খোঁজ খবরও নাওনা। অথচ আমার প্রতিটা মুহুর্তকে তুমি ভরিয়ে রাখতে ভালোবাসায়। দুরে গিয়ে কেমন করে ভুলে গেলে আমায়? কোথায় আছো তাও সঠিক জানিনা। শুধু জানি দুর আকাশের বুকে কোথাও তোমার ঠিকানা। যে ঠিকানায় কোনো চিঠি যায়না আসেনা। তোমাকে ছাড়া ঘন অন্ধকারের মধ্যেই আবার ডুবে গিয়েছি।
তুমি ফিরিয়ে এনেছিলে একসময় আমাকে অন্ধকার জীবন থেকে আলোর মাঝে। যখন কালো অন্ধকার তার দু হাতে আমাকে চারপাশ থেকে ঘিরে ধরেছিল, যখন প্রচন্ড হতাশায় জীবনের ব্যার্থতায় নিজেকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে নিয়ে যাচ্ছিলাম তখন তুমি এলে। তোমার মনে আছে সেই দিনের কথা?-- সেই আমাদের প্রথম দেখা! তোমার চেম্বারে এসেছিলাম রুগি হিসেবে। তোমার পরামর্শে আমার বাড়ির লোকেরা আমাকে লাইফ-লাইন নার্সিংহোমে ভর্তী করেছিল। তখনও কিন্তু মনে মনে দৃঢ় প্রতিঙ্গা করে রেখেছিলাম বাঁচতে চাইনা। জীবনের কিছু ব্যার্থতা জ্বালিয়ে দিয়েছিল আমার মনকে। নিঃশব্দে ছাই হয়েছিল মনটা। তাই ফিরিয়ে নিয়েছিলাম মুখ জীবন থেকে।
পেশেন্ট হিসেবে উপদেশ আর ওষুধের ডোজ একসাথেই চালাতে আমার ওপর। অনেক বলতে তুমি জীবনের কথা। তুমি বলতে বাঁচাতেই আনন্দ মৃত্যুতে কোনো আনন্দ নেই, নেই কোনো চ্যালেন্জের স্কোপ। ভালোলাগতো তোমার কথা, ভালোলেগেছিল তোমাকে। বাড়ি ফিরেছিলাম এক ভালোলাগা মন নিয়ে। তবে ভালোলাগা মনটা অশান্ত হয়ে উঠল পরের দিনই যখন তোমাকে কাছে পেলামনা। কদিনেই অভ্যস্ত হয়েছিলাম তোমার সাহচর্যে। অবিরাম তোমায় খুঁজতো মনটা। তোমার সাথে কথা বলতে চাইত। ঠিক করলাম কদিন পরে অসুখের ছুতো করেই তোমার কাছে যাব। কারন ভালোলাগাটা তো শুধুই আমার তরফের। তোমার মনেতো কোনো ঢেউ ওঠেনি। তখনও জানতামনা আরও একটা আশ্চর্য অপেক্ষা করে আছে আমার জন্য। মনে নানান ভাবনা নিয়ে সেদিন কলেজে গিয়েছিলাম ফিরে দেখি তুমি আমাদের ঘরে। আশ্চর্য হয়ে দেখতেই মা বলল ‘তুমি দাদার বন্ধু। ছোটোবেলায় এক স্কুলে পড়তে পরে তোমার বাবার চাকরির জন্য তুমি বাইরে চলে যাও’। কি খুশি যে হয়েছিলাম সেদিন।
আচ্ছা চিঠিটা বড় হলে তুমি রাগ করবে না তো? কি করি বল— আমাদের প্রথম দিনগুলো যে বড়ই রোম্যান্টিক ছিল। তুমি হয়ত ভুলে গিয়েছ তাই সব লিখতে ইচ্ছে করছে। সেদিনের পর থেকে পাল্টে গেল আমার জীবন। উৎসাহ ফিরে পেলাম, মনের অবসাদ কাটল। লেখাপড়ায় পিছিয়ে থাকা মনটা ভরে উঠল বি.এ- পরীক্ষার অসম্ভব ভালো রেজাল্টে। তারপরের কথা মনে আছে তো! জানি তা তো মনে থাকবেই। কতো রাগ, জেদ করেছ আমার পড়া নিয়ে। শেষকালে বললে হায়ার স্টাডিস না হলে বিয়েই করবেনা। বাধ্য হলাম ঝুঁকতে তোমার জেদের আগে।
কতদিন হয়ে গেল কিন্তু মনে হয় যেন সেদিনের কথা। আজ নিঃসঙ্গতার মাঝে তোমার ফেলে যাওয়া কথাগুলোই আমার সঙ্গি। তুমি বলতে প্রথম জীবনের মতোই রোম্যান্টিক প্রেমের জীবন কাটাব শেষের দিনে। বলতে বয়স্ক প্রেমের মজাই আলাদা। আচ্ছা, এতোই যদি জানতে তাহলে একলা কেন চলে গেলে? আমাকেও তো নিয়ে যেতে! তোমার ওখানে খুব ভালোলাগছ তাই না? তাইতো আমার খোঁজ একদম করোনা। আমি মাঝে মাঝেই তোমাকে মেঘেদের ঠিকানায় চিঠি দিই। পাও কিনা জনিনা। যা দুষ্টু মেঘগুলো! হয়তো বাতাসের সাথে খেলতে খেলতে আমার চিঠিটা উড়িয়েই দেয়! চিঠি শেষ করলাম আজ। আবার যখন মনের কোনে কথার পাহার জমবে আবার চিঠি লিখব।
( এক নিঃসঙ্গ জীবন)
প্রিয় বোন
মধুমিতা,
মাত্র চারটি বছর ছিলিস তুই আমাদের সাথে। খুব অল্প অল্প মনে পড়ে তোকে। দুদিনের জ্বরে আমাদের ছেড়ে চলে গেছিস। জানিস, তোর ঐ চার বছরের ছোট্ট মেয়াদের মধ্যে তোর কার্যকলাপের কথা স্মরণ করে মা বলে -তুই নাকি বেশীদিন থাকতে আসিস নি। কি জানি মায়ের মন হয়ত বুঝতে পেরেছিল । দেখতে দেখতে চার দশক হয়ে গেল। আমরা যে যার জীবনের সকল কাজের মাঝে ব্যস্ত।
আমরা সবাই ভালই আছি। তবু জানিস মাঝে মাঝে মনে হয় তুই-ই ভাল আছিস। তুই তো সব উপেক্ষা অনাদর - সব কিছুর উর্ধ্বে ! কি জানি তুই বেঁচে থাকলে হয়ত আমাদের জীবনটা আর একটু অন্যরকম হতো। হয়ত থাকত কত গল্প - আবেগের গল্প, বৃষ্টির গল্প, খুনসুটি, পূজোয় ঠাকুরদেখার গল্প, মান-অভিমান।
যেখানেই থাক ভাল থাকিস। মেঘেদের দেশে চিরপ্রশান্তির দেশে যেখানেই থাক খুব খুব ভাল থাকিস।
ইতি
তোর অভাগী দিদি
মৌসুমী
মা ,
তুমি কেমন আছো ? কত দিন তোমার সাথে মন খুলে কথা বলতে পারি না ৷ তুমি যখন ফোন করো তখন বাড়ির লোকজন ঘোরাফেরা করে কথা শোনার জন্য ৷ তাই বহু দিন পরে চিঠি লিখতে বসেছি ৷
তুমি তো জানো মা কত কষ্ট করে বাচ্চা ছেলেটাকে নিয়ে আমায় এই বাড়িতে থাকতে হয় ৷
তোমার জামাই মারা যাবার পর থেকে আমার ওপর আরো বেশি নির্যাতন শুরু করেছে শ্বশুরবাড়ির সবাই ৷ সারা দিন পরিশ্রম করে ও কাউকে সন্তুষ্ট করতে পারি না ৷ ঝি এর মত ব্যবহার করে ৷
তোমার কাছে গিয়ে ও থাকতে পারি না ৷
দাদা বৌদি আমার সাথে কথাও বলে না ৷
তুমি নিজেই ওদের সাথে কত কষ্ট করে থাকো তা তো জানি ৷
তোমার জামাই এর অফিসে সাত মাস পর ভাগ্যিস চাকরিটা পেয়ে গেছি না পেলে যে কি হতো জানি না ৷ চাকরিটা পেতে ওর বন্ধু সজলবাবু অনেক সাহায্য করেছেন জানো তো ৷অফিসে কাজকর্ম বুঝতে অসুবিধা হলেও উনি হেল্প করেন ৷
চাকরি পাবার পর থেকে শ্বশুর শাশুরী টাকা চাইতে শুরু করেছেন ৷ সংসারে আরও বেশি টাকা দিতে বলছেন যে ভাবে হোক ৷
সেদিন মামাতো ননদ এসে আমাকে শাশুরীর সামনে বলল - ওর চেনা কিছু বড় লোক ছেলে বন্ধু আছে ওদের মাঝে মধ্যে খুশি করতে পারলে আমার নাকি টাকার কোন অভাব হবে না ৷ শুনে আমি শিউরে উঠেছিলাম ৷ আমার শাশুরী শুনে খুব খুশি বললেন - শোন , ছুটির দিনগুলোতে বাচ্ছাকে নিয়ে ঘরে বসে আদিখ্যেতা না করে ওর বড় লোক বন্ধুদের সাথে ঘোরাফেরা করো , পার্টিতে যাও তাতে সংসারে আরো টাকা আসবে ৷ আমার আরও টাকা চাই বুঝলে ?
আমি এই নরকে আর থাকতে পারছি না মা ৷
সেদিন কথাগুলো শুনে আমি
সারারাত কেঁদেছি ছেলেকে বুকের জড়িয়ে ৷৷ ভাসুর আজকাল নানান
ছুতো করে আমার ঘরে ঢুকে আসেন , আমার গায়ে হাত দেন ৷
আমি শাশুরীকে জানাতে উনি উল্টে আমাকেই গালাগালি দিলেন - আমি নাকি ভাসুরের মাথা খাচ্ছি ৷
অফিসে গিয়ে সেদিন বার বার অন্যমনস্ক হয়ে কাজে ভুল করে ফেলছিলাম ৷ সজলদা টিফিনের সময় কারণ জিজ্ঞাসা করাতে আমি কাঁদতে কাঁদতে সব বলে ফেলেছি ৷ উনি সব শুনে আমায় বিয়ে করতে চাইছেন ৷ ছেলের সব দায়িত্ব নেবেন , বলে কথা দিয়েছেন ৷
আমি কোন উত্তর দিই নি ৷ তুমি বলো মা আমি কি করবো ? তোমার মতামতের অপেক্ষায় থাকলাম ৷ আমার প্রণাম নিও
ইতি - অভাগী মীরা
- - - - - - - - - - - - - -শ্যামাপদ মালাকার - - - - - - - - - - - - - - - - গ্রা:-চন্দনপুর
- - - - - - - - - - - - - - - - - পো: জোড়দা
- - - - - - - - - - - - - - - জেলা: বাঁকুড়া
হে প্রিয়তমা-
যাও, ফিরে যাও,-ফিরে
যাও আপনার কঠিন ভীতের চিরস্হায়ী নীড়ে।
ফিরে গিয়ে- প্রায়চিত্ত করিও তোমার অপরিণত মনের সিদ্ধান্ত, পুড়িয়ে দাও গিয়ে-- নিন্দিত পুরুষের অসমাপ্ত কবিতার ডাইরী।
প্রথম হয়তো আমার অনুপস্হিতি মর্মমূলে পীড়ন হানবে- তবু,-ধীরে ধীরে শহরের অবিশ্রান্ত কোলাহলে আমাকে ভাবার তোমার অবকাশ একদিন- মন্হর হয়ে আসবে।
ফিরে পাবে পুনরায় সন্তরণের বিরাট সমুদ্র, বিবশতা কেটে মুছে যাবে সব কালিমার ঢেউ।
হে ইতিহাসধারী যুগ-যুগান্ত ললাটভাঙ্গনের সাক্ষ্যকারী- হে দূর গামিনী বেগবতী স্রোতস্বীনী,-আমি শুধু তোমাদের ভালবাসি--আমি শুধু তোমাদের ভালবাসি।
আমার সাক্ষী রবে ধূসর সেই পাখিটা,-যার কণ্ঠ অনেক কাল পর পর পল্লীর দিগন্তে ধ্বনিত হয়ে বেড়ায়,--আর রবে গাঁ-এর ধূর্ত ঐ ছেলেটা,--যে মা'কে নুকিয়ে কচি পেয়ারাটা ছিঁড়ে- বাছুরটার মুখে দিয়ে বলে,--"খা- -খা- - -খানা! - - -খাখা,- - -
---------------------------------------ইতি
---------------------------------------শ্যাম
পরম শ্রদ্ধেয় মা,
মা তুমি কেমন আছো?আমি বেশ ভালোই আছি। তবে ইদানীং না পাওয়া শৈশবটা বড্ড বেশি জ্বালাতন করছে। মনের ভেতর স্তূপীকৃত পুঞ্জিভূত ক্ষোভগুলো ক্রমশ মাথা চারা দিচ্ছে। আজীবন সবাই কে ভালো আছি বলেই অভ্যস্ত,তাই বলতে কেমন লাগলেও কয়েকটা কথা না বললেও বুকের ভেতরটা কী রকম মোচড় দিচ্ছে। তাই বলা। এর বাইরে তুমি কোন দাঁড়িপাল্লা খাটিয়ো না। তোমার মনে পড়ে,পূজাতে আমি কোনাদিন নতুন পোশাকের মুখ দেখতে পাইনি।বন্ধুরা যখন এক একদিন একরকম পোশাক পড়ত,ভালো ভালো খেত,বাজি পোড়াত;আমি তখন চারদিনই পুরানো জামা পড়ে কাটিয়ে দিতাম।ওরা জিঞ্জেস করত,আমি পড়ব রে পড়ব বলে হাসিমুখে কাটিয়ে দিতাম।ভালো ত দূরের কথা কতদিন তো খাবারই জোটেনি।আমি তোমাদের সাথে খেতাম না বলে রাগ করতে।আসলে তা নয়,রেশনের লাল গমের রুটি খেতে খুব কষ্ট হত;তাই আমি পড়ার বাহানা দিয়ে সবার শেষে খেতাম।ক্লাস নাইন অবধি হাফপ্যান্ট,শীতের সময় বাবার খাটানো প্যান্ট আর দাদুর সেই হনু টুপিটা;বন্ধুরা খুব খেপাত,এমন কি স্যারেরাও,কিন্তু তোমায় কোনোদিন বলিনি। মা সেই পাশের বাড়ির অপূর্বকে মনে আছে,বিশ্বাস কর সেদিন আমি বইটা দেখছিলাম,কিন্তু ও এসে বলল:'না বলে নিলে কী বলে?'আমি বলতে বাধ্য হলাম চোর।স্যার টিউশন থেকে বের করে দিল। মা আমি কোনোদিন সবুজ মাঠ,নতুন জামা বা বইয়ের গন্ধ, কারও পরামর্শ পাইনি।স্রেফ দুবেলা শুনেছি আমি গরিব।সবাই করুণা করেছে।আর একটা কথা খুব মনে পড়ে,সেই খেঁজুরের রস বিক্রি করতাম।আমাদের এক স্যার নিতেন।সেদিন হাল্কা বৃষ্টি হচ্ছিল,শীতটাও বেশ ছিল।স্যার কে কলিং বেল টিপে ডাকতেই, স্যার এরকম আবহাওয়ায় বেরিয়ে আসতে হলো বলে এমন করে ঠিলে দিয়েছিল আর একটু হলে পড়ে যেতাম। কালের কী নিয়ম দেখ আজ আমি উনাকে বসতে বললে বসবে আর উঠতে বললে উঠবে। যদিও কোনোদিনই বলব না।আর সেই বন্ধু আমার থেকে নীচু পোস্টে আছে। এটা কোন অহংকার নই।কিন্তু সমস্যা হয় এরা তেল মারতে এলে।কেউ বলে ভুলতে, কেউ বলে এই সুযোগ।কিন্তু দুটোই আমার দ্বারা সম্ভব হচ্ছেনা। কী করি বলোতো?
এই মানসিক দ্বন্ধের অবসানের জন্যই কলম ধরা।ভালো থেকো।আর আমি,একই উত্তর--ভালো আছি।
ইতি-
তোমার অর্ধেন্দু
অপুকে চিঠি,
ভাই অপ,কেমন আছো ভাই? অনেকদিন তোমার সাথে আড়ি।
আজ আবার ভাব করতে এলুম। অনেক রাত তোমার কথা শুনতে শুনতে ঘুমিয়েছি। কখনো তোমার ভাবনাকে জড়িয়ে,কখনও বা নিজের ভাবনা তোমায় মেখে।
আচ্ছা ভাই এখনও চড়ুইভাতি করিস তুই? তুই আর দিদি মিলে আশশেওড়া ফল খাস?
আচ্ছা তুই কি এখনও শৈশব জুড়ে না পাওয়ার মাধুর্য বয়ে আনিস?
আচ্ছা আমি কিন্তু কাশী বা কলকাতার অপুকে চিঠি লিখবনা। লিখছি নিশ্চিন্দিপুরের অপুকেই।
তুই যে নিশ্চিন্তে বলিস না পাওয়া মাখা শৈশবের কথা। তোকে ভুলি কিকরে বল?
ভাল থাকিস ভাই, নাইবা হলাম কোর দুগ্গা দিদি,তবু তোকে চিঠি লিখে ভাসিয়ে দিলেম মেঘে। ভাল থাকিস।
দিদি
প্রিয় অতনু,
কেমন আছিস তুই?
গুনে গুনে পেরলো আজ পুরো ষোলোটা মাস,
তুই করছিস পরবাস।
নামি বিলেতের দামী মাটিতে
ব্যস্ততার সৌখীন কার্পেটে হয়ত চাপা দিয়ে
তোর সেই পুরোন প্রিয় সখের অবকাশ।
কবে আসবি তুই?
ফিরবি কি আর কোনদিন—
তোর বিদেশী গগলসে মানাবে কি আর এই দেশি আধাশহুরে প্রতিচ্ছবি,
লাগবে না কি শ্রীহীন?
আচ্ছা একটা কথা বল—
এত ভালো আঁকতিস যে তুই,
ছিলিস রঙের মাতাল
ব্যস্ত আধুনিকতার ভিড়ে হারিয়ে যায়নি তো
সেই রঙীন স্বত্ত্বাটুকুই?
তোর দামি পোশাকে চাপা পড়া শিরায়
আজও করে কি সেই রঙের নেশা চলাচল?
অনেক তো হল আজ,
শেষে বলি, যেমন’ই থাক ভালো থাকিস।
আমিও ভালোমন্দ আছি;
বাস্তবের সাদামাটা হিসেব-নিকেশ নিয়ে—স্বপ্নের কাছাকাছি।
শুধু এটুকুই আশা—
একটু হলেও আমায় মনে রাখিস,
ইতি তোর
মণীষা।
প্রিয়তমা অনুকে
বহুদিন বাদে জানলার কার্নিশ বেয়ে আবছা তোর ছায়ামূর্তি। এবার আমার বিদায় নেবার পালা।কেমন আছিস জানতে চাইব না । বোধ হয় কেন? নিশ্চিত তুই ভালো আছিস । সবার থেকেই একে একে বিদায় নিয়েছি। লিস্ট ঘেঁটে দেখলাম বাকি রইলি শুধু তুই, তাই এবার তোর থেকে।বিষাতুর ব্যাথাগুলো বৃষ্টির মেঘ হয়ে জমেছিল অলিন্দে আর বয়ে বেড়াতে পারছিলাম না তাই ঝেড়ে ফেললাম চিঠি দিয়ে ।অনুরোধের মুখ নেই তবু ও বলতে হয় বললাম পারলে পরিস ।
শহর টা বড্ড বোরিং হয়ে জাচ্ছিল,কাজ-কর্মহীন উন্মাদের মত মত্য নৃত্যে বেহুস হ্যালোইন থেকে মুক্ত হতে পর্ণমোচীতে আশ্রয়। প্রথমে চাকরিটা তারপর ভৃত্য রামু ও শেষে গোসা ঘর (তোর ফেলে আসা)। তঞ্চকতা জিনে নেই তাই বলে গেলাম।
বিক্ষিপ্ত শব্দ গুলো কোনক্রমে সাজাবার চেষ্টা করলাম অনভ্যস্ত হাতে। সামনা সামনি হবার ইচ্ছে গুলো মরে গেছিল আগেই দাহ করে শেষে লিখতে বসেছিলাম।তোলপাড় করা বুকের মাঝের অক্ষর গুলো কোনক্রমে বিন্যাস শুরু ও শেষের মাঝে একটা দন্ধ ছিল। লাঞ্ছিত,অনাদৃত,অপদার্থরা ভালবাসার যোগ্য নয়। যোগ্যতম উদবর্তে আন ভ্যাকেন্টই রইলাম। সমাদৃত হতে না পারার আক্ষেপ নিয়ে কোন ক্রমে অন্যত্র।
রুক্ষ সরজমিনে হাজার বর্গফুটের ফ্ল্যাটটার বলরুমে রাখা ছোটপর্দার ছোট ছোট চরিত্র গুলো মাঝ রাতে গিলে খাচ্ছিল কথার জালে, ম্যাগাজিনের পেজের ইংরাজি বর্ণমালা গুলো বড্ড অসহ্য হয়ে উঠেছিল।তাই অগত্যা সাইকিয়াটিস্টের পরামর্শ,নিউ লং জার্নি কিছুটা রোমাঞ্চ রোমহর্ষ বটে তাই চললাম।
তবে কোনদিন যদি ফিরি তাহলে আরেকটা চিঠি দেব।সেটা সুখান্তরের পুরোনো টিলায় বসে পেয়ালায় ঢেলে চায়ের প্রস্তাবের হয়ত। আপাতত জ্বালাতন ভুলিয়ে বিদায় নিলাম ।
ইতি
প্রান খোলা হাসি
প্রেয়সী,
একটা সত্যি কথা বলব,
জানি না তুমি বিশ্বাস করবে কি?
কে জানে, তুমিই হয়ত বলবে
এত বড় স্পর্ধা!
তাই ভয় পাই আমি
যদি সত্যি কথা বলে তোমাকে হারাতে হয়,
খুবই কষ্ট হচ্ছে, তোমাকে হারানোর কথা ভেবে
একটা সত্যি কথা বলার ছিল
বলব কি?
নিজাম
গ্রামের বাড়ির খোলা ছাদ,
২৯শে অক্টোবর, ২০১৭
আমার দূর আকাশের ছোট্ট তারা,
তুই কি আমায় দেখতে পাচ্ছিস আকাশ থেকে ? আমি কিন্তু এতদূর থেকেও তোকে চিনেছি । আগের মতোই প্রাণোচ্ছ্বল, ঝলমলে আছিস তুই । ঐ যে ঈশান কোণে আকাশের গায়ে বসে আছিস তুই, আমি প্রতিদিন দেখি তোকে । সাঁঝ হয়ে গেলে আমার একটিই কাজ । ছাদ থেকে বসে বসে তোকে দেখা ।
তোর নিশ্চয়ই মনে আছে, পড়াশুনায় কত ভালো ছিলি তুই ! কাবেরীর সাথে কি রেষারেষি ছিল তোর...! পরীক্ষায় কোনবার ও ফাস্ট হত তো কোনবার তুই ফাস্ট হতিস । জানিস, কাবেরী এখন বড় সরকারী অফিসার । পাবলিক সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষা দিয়ে একবারেই পেয়ে গিয়েছে চাকরীটা । কয়েকদিন আগেই এসেছিল আমাদের বাড়ি । ওর সামনে চোখ তুলে তাকাতে পারছিলাম না রে...! আজ তুইও এমন সরকারী অফিসার হতে পারতিস যদি তোকে সাত তাড়াতাড়ি বিয়ে দিয়ে না দিতুম ! তুই উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় কাবেরীর থেকে চার নম্বর বেশি পেয়েছিলি তোর মনে পড়ে ? স্টার পেয়ে যেদিন বাড়ি এসেছিলি সেদিনই তোকে দেখতে এসেছিল ঐ নরপিশাচগুলো...
তুই আমাদের কত করে বুঝিয়েছিলি তুই আরও পড়াশুনা করতে চাস – আরও বড়ো হতে চাস । কিন্তু আমরা তোর কোন কথাই শুনি নি । জোর করে বিয়ে দিয়ে দিয়েছিলাম তোকে । অভিমানে তুই আমাদের সাথে ভালো করে কথা বলিসনি অনেকদিন ।
আট মাস পরে এলো সেই অভিশপ্ত দিনটি । তোর শ্বশুরবাড়ি থেকে ফোনটা পেয়ে আমরা ছুটেছিলাম পড়িমড়ি করে । হাসপাতালে যখন পৌঁছেছিলাম, তখন সব শেষ হয়ে গেছিলো । পোড়া অঙ্গার হয়ে পড়েছিলি তুই মর্গে । তোর শ্বশুরবাড়ি থেকে বলেছিল তুই নাকি গায়ে আগুন দিয়েছিলি ! আমরা জানতুম তুই শত কষ্টেও গায়ে আগুন দিতে পারিস না । তুই তো আগুনের কাছেই যেতে ভয় পেতিস ! জানিস আমরা ওদের ছাড়িনি । তোর শ্বশুর, শাশুড়ি আর বরটা এখন জেলে । কিন্তু কি লাভ হল বল তো ? শান্তি আমরা পেলাম না ! আজ দুবছর হল, তোর বাপি আর কথা বলে না কারো সাথে । শুধু আমার মতোই আকাশের দিকে চেয়ে বসে থাকে । বোধহয় তোকেই খোঁজে জানিস !
রাত প্রায় বারোটা হয়ে গেলো ! এবার যাই রে ! নাহলে তোর বাপি ঘুমাবে না । আজকাল আর ঘুমের ওষুধ খেয়েও আমাদের ঘুম আসে না ! আবার কাল কথা বলবো কেমন ! যাই...
ইতি
তোর হতভাগিনী মা
২৯শে অক্টোবর, ২০১৭
আমার দূর আকাশের ছোট্ট তারা,
তুই কি আমায় দেখতে পাচ্ছিস আকাশ থেকে ? আমি কিন্তু এতদূর থেকেও তোকে চিনেছি । আগের মতোই প্রাণোচ্ছ্বল, ঝলমলে আছিস তুই । ঐ যে ঈশান কোণে আকাশের গায়ে বসে আছিস তুই, আমি প্রতিদিন দেখি তোকে । সাঁঝ হয়ে গেলে আমার একটিই কাজ । ছাদ থেকে বসে বসে তোকে দেখা ।
তোর নিশ্চয়ই মনে আছে, পড়াশুনায় কত ভালো ছিলি তুই ! কাবেরীর সাথে কি রেষারেষি ছিল তোর...! পরীক্ষায় কোনবার ও ফাস্ট হত তো কোনবার তুই ফাস্ট হতিস । জানিস, কাবেরী এখন বড় সরকারী অফিসার । পাবলিক সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষা দিয়ে একবারেই পেয়ে গিয়েছে চাকরীটা । কয়েকদিন আগেই এসেছিল আমাদের বাড়ি । ওর সামনে চোখ তুলে তাকাতে পারছিলাম না রে...! আজ তুইও এমন সরকারী অফিসার হতে পারতিস যদি তোকে সাত তাড়াতাড়ি বিয়ে দিয়ে না দিতুম ! তুই উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় কাবেরীর থেকে চার নম্বর বেশি পেয়েছিলি তোর মনে পড়ে ? স্টার পেয়ে যেদিন বাড়ি এসেছিলি সেদিনই তোকে দেখতে এসেছিল ঐ নরপিশাচগুলো...
তুই আমাদের কত করে বুঝিয়েছিলি তুই আরও পড়াশুনা করতে চাস – আরও বড়ো হতে চাস । কিন্তু আমরা তোর কোন কথাই শুনি নি । জোর করে বিয়ে দিয়ে দিয়েছিলাম তোকে । অভিমানে তুই আমাদের সাথে ভালো করে কথা বলিসনি অনেকদিন ।
আট মাস পরে এলো সেই অভিশপ্ত দিনটি । তোর শ্বশুরবাড়ি থেকে ফোনটা পেয়ে আমরা ছুটেছিলাম পড়িমড়ি করে । হাসপাতালে যখন পৌঁছেছিলাম, তখন সব শেষ হয়ে গেছিলো । পোড়া অঙ্গার হয়ে পড়েছিলি তুই মর্গে । তোর শ্বশুরবাড়ি থেকে বলেছিল তুই নাকি গায়ে আগুন দিয়েছিলি ! আমরা জানতুম তুই শত কষ্টেও গায়ে আগুন দিতে পারিস না । তুই তো আগুনের কাছেই যেতে ভয় পেতিস ! জানিস আমরা ওদের ছাড়িনি । তোর শ্বশুর, শাশুড়ি আর বরটা এখন জেলে । কিন্তু কি লাভ হল বল তো ? শান্তি আমরা পেলাম না ! আজ দুবছর হল, তোর বাপি আর কথা বলে না কারো সাথে । শুধু আমার মতোই আকাশের দিকে চেয়ে বসে থাকে । বোধহয় তোকেই খোঁজে জানিস !
রাত প্রায় বারোটা হয়ে গেলো ! এবার যাই রে ! নাহলে তোর বাপি ঘুমাবে না । আজকাল আর ঘুমের ওষুধ খেয়েও আমাদের ঘুম আসে না ! আবার কাল কথা বলবো কেমন ! যাই...
প্রিয় বন্ধুরা ,
আজ অবধি তোমাদের এই ব্যাপ্ত সমাজে অনেক কিছু নতুনত্ব খুঁজে পেয়েছি ।। এমন একটা সময় তোমরা পাশে দাঁড়িয়েছ এসে যখন নিজেকে নতুন করে মেলে ধরার পথ বাতিলের খাতায় ।। তার জন্য ধন্যবাদ জানাতেই হয় তোমাদের ।। তবে , যেটার জন্য আরও ধন্যবাদ জানাতে চাই সেটা হল , সময়ে অসময়ে তোমাদের দেওয়া নানা নাম , সম্মান ।। অনেক নাম বেশ হাস্য রসে ভরা , এই যেমন ধরুন সবচেয়ে কাছের ভালোবাসার মানুষটি যদি ক্রমাগত হেরে যাওয়া একটা ব্যক্তিত্ব রূপে আমায় সাজিয়ে তোলে বা সবচেয়ে কাছের বন্ধুটির কাছ থেকে বিশ্বাসঘাতক উপাধি বা অনেক পাঠক বা পাঠিকার থেকে ক্রমাগত তামাশার পাত্র হয়ে ওঠা এই ছেলেটা কিন্তু তবে কোনটাতেই রাগ করে নি ভাই , কারণ আমি জানি এ তাদের না বুঝে করা ছেলেমানুষি ।। আর একজনকে ধন্যবাদ দিতেই হয় সে হল , আমার কলম ।। নিজের মধ্যে জমে থাকা দুঃখ , আনন্দ , রাগ বা অভিমান সবই থেকে মুক্তির পথ হয়ে ওঠে আমার কলম ।। এছাড়া তো অজস্র পাঠক বা পাঠিকা আছেই ।।
এবার আসা যাক পরের অংশে , মানে প্রাপ্তির কাহিনী আর বিচ্ছেদের গল্পে ।। চিঠিটি লেখার আগেই বলে রাখি অথবা বলে রাখা প্রয়োজন বলে মনে করি যে আমার এখানে লেখা প্রতি কথার একটাও বানানো নয় অথবা মিথ্যা নয় ।। আমি যা তাই লিখছি , আশাকরি সত্যি লেখার সুফল আপনাদের থেকেও পাবো ।। এবার ফিরে আসি মূল আলোচনায় ।। আমি যখন এই সমাজে এসেছিলাম তখন খুব কম লোক চিনত আর আজ এত লোক চেনে আমাকে ।। এ তো কম ভাল কথা নয় , তবে এটাও ঠিক এই সমাজ আমার আনন্দের মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে বারবার , কখনো নিজের লেখার প্রশংসা পাওয়ায় আবার কখনো নিজের ভালোবাসাকে খুঁজে পাওয়ার ।। হোক সে অনেক দূর তবু তার হাত ধরে নিজের স্বপ্নের পরিসীমা বাড়াতে পেরেছি ।। তার নমুনাই বারবার আপনারা পেয়েছেন আমার বর্তমান জীবনে বা লেখার মধ্যে ।। ভালোবাসায় এতদিন শুনে আসা ব্রেক আপ আমার কাছে একটা শব্দ মনে হয়েছে এবং এই এখানেই পাওয়া ভালোবাসার হাত ধরেই আবার ভালোবেসে যাচ্ছি আজ ।।
এর পর হঠাৎ তাকে হারাতে হল ।। বাড়ির চাপে সে বিয়ে করে বসল , আমিও পথিক হলাম নতুন এক পথে ।। সেই ভালবাসা ছেড়ে আজ আবার ভালোবাসতে ছুটে গেলাম ।। নতুন করে নাম বলার প্রয়োজন মনে করি না , কারন বারবার তারই ছবি আমি এঁকেছি মিস প্রিয়মবদা রূপে আবার কোথাও গরিমার আকারে ।। অনেকে বলে ভালোবাসা ফেরত হয় , আমি বলি যে এটা কোন ব্যবসা নয় আর তাই ভালোবাসি আর ভালোবেসেও যাবো তাকে জীবন ভর ধরে ।।
এর পর আসছি আমার দ্বারা করা একটি বড় অন্যায়ের কথায় ।। আমারই পরিচিত আর বোধহয় আমাকে পূর্ণ মাত্রায় সম্মান যে দিয়েছিল , তাকে নিয়ে এক মিথ্যা সন্দেহ আমি করেছি একবার ।। অনেকের কাছে বলেওছিলাম সেই গল্পটা কিন্তু জানতাম প্রমান নেই কোন , তাই কেউ আমায় দোষী প্রমান করতে পারবে না ।। আমি এর জন্য দুঃখিত আর ক্ষমাপ্রার্থী তার কাছে আর তাকে এ পত্র মারফত অনুরোধ করব , আমাকে ক্ষমা করে দিস , সে দিনটার জন্য ।। আমার জন্য কেউ অনেক বেশি শাস্তি পেয়েছে ।। সেও অপরাধী তবে অনেক কম ।।
তবে যে বিষয়টা আমাকে সবথেকে বেশি আঘাত করে তা হল , নিজের বন্ধুর কাছ থেকে নমক হারাম উপাধি লাভ ।। তাকে অনেক কিছুই বলি , কারন সে আমার কাছের বলে মনে করি আমি ,তবে আগামী দিনে বলব না অথবা ভেবে বলব বলেই ঠিক করেছি , কারন জানি না আমার কখন কি ইচ্ছে বদলে যায় , তার তো আবার কারন চাই আর আমি সব বলতে অক্ষম ।। তাই বলছি , ভাল থাকিস ভাই , আমার মত নমকহারামকে প্রশ্যয় নাই বা দিলি , আমাকে ছাড়া তোর চলে যাবে ঠিকই , তবে তোকে ছাড়া আমার নয় ।। তবে চিন্তা করিস না খোঁড়া পায়ে ঠিক চালিয়ে নেব আমি , হ্যাঁ , একটু কষ্ট হবে জানি ।।
অবশেষে আসব , আমার প্রকাশক বন্ধুদের কথায় ।। লেখালেখির এই জগৎ আমার কাছে চিরকালই একটা স্বপ্নের মত ।। সত্যি বলছি কোন ভাবেই জানতাম না কি করে এগোবো ।। বিশ্বাস করবেন না একটা সময়ে বড় বড় লেখকদের মেল ও মেসেজ করে গেছি ।। আপনারা না থাকলে এমন সুযোগ জুটত না কোনদিন ।। ধন্যবাদ আপনাদের ।। তা সত্বেও কিছু প্রকাশকের দাম্ভিক রূপ আমি দেখেছি ।। আচ্ছা , আপনারা প্রকাশকরাই তো আমাদের মত নতুন লেখক দের ভরসা , কোথায় আপনারা আমাদের উৎসাহ দেবেন , তা নয় আপনারা , আমাদের কে যাচ্ছেতাই ভাবে খিল্লি ওরাও ।। সবাই কর না , কিন্তু যারা করে থাকে তাদের জিজ্ঞাসা করি এটা কি প্রকাশক সুলভ আচরণ হল ? এত অহংকার কিসের আপনাদের ? রাগ করবেন না , কোন প্রকাশক যা আচরণ করেছিল আমার সাথে , আমি তো লেখা ছাড়তে বসেছিলাম ।। লেখক অথবা লেখিকাদের বলব , এদের থেকে সাবধান হন ।।
শেষ করার আগে , কিছু বাংলাদেশি বন্ধুদের কথা বলব , যাদের অনুপ্রেরণা আমাকে লিখতে অনুপ্রেরণা দিয়েছে ।। কিছু ছেলে ও মেয়ে যারা সবসময় পাশে পেয়েছি ।। নিজের ভালোবাসাকে বলব , সঙ্গে আছি আর থাকবো , পারলে একটু বুঝে দেখো আমায় ।। আমার ভালোবাসা একদম খাঁটি ।। আর বন্ধুদের বলব , ভাই ধন্যবাদ সঙ্গে থাকার জন্য ।। তবে যদি আমায় ভাল না লাগে , সঙ্গে চলিস না , কিন্তু আমার ফয়সালা আমাকে বদলাতে বলিস না ।। এই সিদ্ধান্ত আমার কাছে অনেক স্প্যাসল , যা ছাড়তে বা বদলাতে পারব না ।।
আজ আসি , শীঘ্রই আবার ফিরব ।।
ধন্যবাদ
অর্জুন
স্নেহের খোকা ,
তোদের খবর সব কুশল তো? বৌমা, তিতলি আর তোর মা কেমন আছে রে.? তোকে অনেক বার ফোন করলাম, একটা-দুটো কথা বলেই খুব ব্যস্ত হয়ে পড়িস, আজকাল একটু বেশীই ব্যস্ত তুই । তাই তোকে এই পত্রখানা লিখলাম, সংবাদপত্র পড়ার সময়,, একটু সময় করে পড়েনিস ।
তোর মা'র অনেকদিন কোন খবর পাইনি, কেমন আছেরে তোর মা । পুজো আসছে, আমাকে কি একবার নিয়ে যাবি তোর কাছে ? বেশীদিন থাকবো নারে, পুজোর কটা দিন তোর মা'র সাথে কাটিয়েই বুবানের কাছে ফিরে আসবো ।
তোর মা'কে বলিস আমি ভালো আছি। পুজোর সময় তোর মাকে কিছু কিনে দিস আর নাই দিস, এক জোড়া মোজা কিনে দিস । পুজোর পরেই ঠাণ্ডা পরবে, তোর মা'র তো ঠাণ্ডার ধাত । বেশী যেন জল ঘাটাস না মাকে দিয়ে, পারলে একটা কাজের লোক রাখিস,তোর মা আজকাল আর খাটতে পারেনারে। আমাকে যদি নিয়ে যাস, আমি সব কাজ করে দেবো,আর হ্যাঁ আমাকে স্টোররুমে শুতে দিলেই হবে,, একবার পরামর্শ করে নিস বৌমার সাথে । বুবানের কাছ থেকে, আমার জন্য এবার পুজোয় টাকা নিয়েছি,তাই দিয়ে তোর মা'য়ের জন্য একটা লাল পাড় শারী কনেছি । বহুকাল তার জন্য কিছু কিনিনি, তিতলি কত বড় হল রে ?সেকি কথা বলতে শিখেছে ?তার জন্য কিছুই কিনতে পারলাম না, মাপ করতে পারবো না হয়তো ।
তোর মা'কে বলিস এখানে আমার সময় কাটেনা একদম, তাকে খুব মনে পড়ে । এখানে বাবুন আর বৌমা দুজনেই অফিস বেরিয়ে যায়, একা একা কাটাই সারা দিন, একবার চেষ্টা করে দেখিস না, যদি আমাকে নেওয়া যায় তো ।
তোরা ভালো থাকিস, ঈশ্বর তোদের মঙ্গল করুন ।
আশীর্বাদান্তে তোর বাবা
পুনশ্চঃ- তোর মার এজমা কি কমেছে, ঠিক মত কি অসুধ খাছে ? বুবানের ফোনে একবার সময় করে জানিয়ে দিস ।
প্রিয়তমা,
পত্রের প্রথমেই জানাই আমি ভালো আছি। আশা করি তুমিও ভালো আছো। চিঠিটা দেরিতে পৌঁছলে আমায় ক্ষমা করো। তবুও জানাই যে প্রবল দুশ্চিন্তা নিয়েই ঘুমাতে গেলাম। কি জানি কি হয় কাল। আমি তোমাকে যে প্রস্তাব দিয়েছি তা কি তুমি মানবে নাকি বোরাবরের মতো আমায় নিরাশ হয়ে ফিরতে হবে। প্রবল উৎকণ্ঠায় সারা রাত কেটে গেল। ভোরের দিকে কখন যে চোখ লেগে এসেছিল জানি না। ঘুম ভাঙতেই দেখি পাখির দল প্রভাত ফেরী করতে বেরিয়েছে।
কিন্তু আজ যেন তাদের একটু অন্য সুর, অন্য ছন্দ। কিছুতেই বুঝে উঠতে পারলাম না এ কোন সুর। চট করে উঠে পড়লাম অনেক বেলা হয়ে গেছে। অফিসে যেতে হবে তারপর বিকেলে তোমার সঙ্গে দেখা হওয়ার কথা।
কিন্তু দরজা খুলতেই দেখি তুমি দাঁড়িয়ে আছো। আমি তোহ অবাক হঠাৎ তুমি কোথা থেকে এলে। ধূর কিসব বোকা বোকা প্রশ্ন করছি। অবশ্যই বাড়ি থেকে এসেছো। কিন্তু কেন সেই প্রশ্নটা মাথায় ঘুরতে থাকলো।
এমন সময় মা এসে আমায় ডাকদিল কিরে পিকু ঘুম থেকে ওঠ, অনেক বেলা হলো আর তা ছাড়াও শতাব্দীকে আর কতক্ষন অপেক্ষা করিয়ে রাখবি। মানে? কি বলছো এইসব? শতাব্দী কোথা থেকে এলো। মা বললেন কোথা থেকে এলো মানে, সেই কোন সকালে এসে মেয়েটা অপেক্ষা করছে তোর জন্যে।
যাক বাবা এতক্ষনে বেপারটা স্পষ্ট হলো এতক্ষন যা দেখছিলাম সেটা হলো আমার ভোরের স্বপ্ন।। ভোরের স্বপ্ন সত্যি হয় শুনেছি কিন্তু এতটা মিলে যায় সেটা জানতাম না।।
ড্রইংরুমে গিয়ে দেখি তুমি বসে আছো। আজ খুব সুন্দর লাগছে তোমায়। খুব ইচ্ছা করছিল দৌড়ে গিয়ে জড়িয়ে ধরে আদর করি। কিন্তু তার যে উপায় নেই, পাশেই বাবা বসে আছেন। তাই নিজের ইচ্ছাটা কে বরফ চাপা দিলাম।
তোমার উল্টো দিকের সোফা টা তে গিয়ে বসলাম। অফিসে যাওয়া মাথা উঠলো। কারণ আমি জানি তুমি এতো সকালে কি কারণে এসেছো।
বাবা আছেন বলে তুমি কিছু বলতেও পারছো না। তাই ইশারা করে আমায় কি যেন বলতে চেষ্টা করলে কিন্তু আমি সেটা বুঝতে পারলাম না। তাই তুমি একটা কাগজে I LOVE YOU লিখে আমায় দেখালে। আনন্দে মনটা গড়ের মাঠ হয়ে গেল অবশেষে আমায় খালি ফিরতে হয়নি। হঠাৎ মা ডাকদিল breakfast রেডি চলে আয়ে তোরা। প্লান করে ফেললাম আজ তোমায় নিয়ে সারাদিন ঘুরবো celebrate করবো। কিন্তু কেন জানি না আমার পিঠটা শিরশির করে উঠলো কেমন যেন ঠান্ডা জল ফ্রিজ থেকে বার করে খেলে দাঁতের গোড়ায় হয়। সোফা থেকে উঠতে পারছিনা। মাথাটা ঘুরছে, চোখে অন্ধকার দেখছি।
খানিকক্ষণ বাদে চোখ খুলে দেখি আমি dinning রুমে শুয়ে আছি আর আমাকে ঘিরে বসে সবাই কান্না কাটি করছে।
ও শতাব্দী কি হলো কাঁদছো কেন, মা ও মা কি হলো গো দেখো এই তোহ আমি ঠিক আছি। কিন্তু পিঠের শিরশিরানি টা এখন আর তীব্র অনুভব করছি। মা আমার পিঠে খুব ঠান্ডা লাগছে একটা কম্বল দেবে। ও মা দাও না একটা কম্বল। কিগো দাও। এত দেখি কেউ কথা শোনেনা। যাই আমি উঠে গিয়ে কম্বল মুড়িদি।
উঠতে গিয়ে টনক নড়ল আমার, আমাকে কারা যেন বরফের উপর শুইয়ে রেখেছে তাই ওই শিরশিরানি।
ও শতাব্দী আমাকে বরফের উপর শুইয়ে রেখেছো কেন, মা কে বলো না আমার খুব ঠান্ডা লাগছে। আমাকে এখান থেকে তোলো। ঠান্ডায় মরে যাবো যে।। ও শতাব্দী ও শতাব্দী।
কাঁদতে কাঁদতে মুখ চাপাদিয়ে তুমি চলে গেলে। যাওয়ার আগে একবার শুনেও গেলে না।
I Love You Too My Love..
ইতি
তোমার ভালোবাসার মানুষটি

Comments
Post a Comment